Facebook for two days read on the story The author
"ফেসবুকে দু'দিন গল্প পড়েই লেখক।"
শিরোনাম দেখে অনেকেই একটু কনফিউজড হবেন আজকে কেন আমি এ নিয়ে কথা বলছি। আজকে বলতে বাধ্য হচ্ছি। বেশ কিছুদিন যাবত নজরে আসছে কয়েকদিন ফেসবুকে দু-একটি গল্প পড়ে নিজেই লেখা আরম্ভ করেছে এবং নিজেকে লেখক বলে দাবী করা শুরু করেছে। অথচ তার জানা নেই সে কী করতে যাচ্ছে।
আপনাদের লেখার ইচ্ছে থাকতেই পারে,মানা নেই! কিন্তু কিন্তু এটা যে সমাজ এবং পাঠক/পাঠিকাদের কাছে একটি যুদ্ধ আপনি কি তা জানেন? আপনার স্বপ্ন আপনি গল্প লিখবেন। মানা নেই। কিন্তু আপনি যে দু'টি গল্প পড়েই লিখতে বসে গেলেন তা আপনি লেখালিখি সমন্ধে ধারণা কতটুকু?
এটা লেখালিখি, কোনো হাতের মোয়া নয় যে আপনি যেমন ইচ্ছা তেমন তৈরী করবেন। আপনি জানেনই না লেখালেখি হবে না-কি লেখালিখি হবে না-কি লিখালিখি হবে। এটাই ভালো ভাবে জানা নেই। তবে আপনি কেন এ কাজে এলেন। গত কয়েকদিন আগে আমি পোস্ট করেছিলাম কোথায় যেনো " সাহিত্য এবং লেখালিখি হলো লঙ্কা পিণ্ড "। কথাটির মানে কেউ বুঝে নি এবং কেউ জানতেও চায় নি। কিছু মানুষ হাহা রিয়েক্টও দিয়েছিলো।
সাহিত্য শেখাটা এতটাই কঠিন যা আপনার মস্তিষ্ক কে বিকৃত অথবা বিভ্রান্ত তৈরি করে দেবে। আপনি এতদিন যা যা জেনে এসেছেন তা সাহিত্য তে ভুল প্রমাণিত করা হয়। আপনি যা যা জানতেন তার ৮০ ভাগ ভুল প্রমাণিত হবে। এই ঝুঁকি আপনার পক্ষে সামলানো বিশাল বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
লেখালিখি হলো এমন একটি সেক্টর যেখানে আপনার মন মতো একটি ওয়ার্ড ও লিখতে পারবেন না। কি অবাক হচ্ছেন? প্রশ্ন আসছে মনে তবে এতো গল্প কীভাবে? আপনি গল্প লিখছেন কিন্তু যারা অভিজ্ঞ যারা সাহিত্য মেনে গল্প লিখে তারা অথবা তাদের লেখার ধরণ ভিন্ন পাবেন। লেখালিখি হলো এমন একটি সেন্সিটিভ বিষয় যেখানে আপনার যে শব্দটি ভুল অথবা জানা নেই তা লিখতে পারবেন না। এছাড়াও লেখালিখিতে মেইনটেইন করতে হয় শব্দচয়ন, বাক্যগঠন,শব্দার্থ,সঠিক শব্দ ও ব্যবহার বিধি এবং সংলাপ। তা ভাই/বোন আপনি যে দু'টি গল্প পড়ে লেখতে আরম্ভ করলেন তা আপনি এই কয়টা বিষয়ের মধ্যে কয়টি জানা আছে অথবা আয়ত্ত করা আছে? উত্তর হবে একটাও না।
আপনাদের এই দু'দিন গল্প পড়ে লেখার জন্য পাঠক সমাজ ধ্বংসের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও বড়বড় লেখক/লেখিকা তথা গল্পকাররা ভালো চোখে দেখছেন না। যদি প্রশ্ন করেন পাঠক সমাজ ধ্বংস কীভাবে হচ্ছে?
উত্তরে বলবো আমি আপনি দু-তিনটি গল্প পড়ে লিখতে বসে যাচ্ছেন অথচ আপনার গল্পে পাঠক হচ্ছে না আর যারা পড়ছে অধিকাংশই একঘেয়েমি অথবা অতিষ্টতায় ভুগছে। যার ফলে গল্প পড়তে ইচ্ছে করছে না। আর এগুলোর জন্য দায়ী কেবল আপনি। হ্যাঁ শুধু আপনি।
আপনি জানেন না কোথায় কি এবং কী এর ব্যবহার হয়। কোথায় টা এবং টি এর ব্যবহার হয়। এবং কীভাবে হয়। এছাড়াও লেখালিখিতে নানা বিধিবিধান রয়েছে তার কিছুই আপনার জানা নেই। তবে আপনি কেন লিখতে যাবেন? আপনার তো লেখার প্রয়োজনই আমি দেখছি না।
আপনাদেরকে উদ্দেশ্য করে মুটামুটি যারা লেখালিখি জানে তাদেরকেও এখন হেয় করে অথবা পাত্তা দিচ্ছে না প্রবীণরা। কেন না স্থানটুকুতে আপনাদের দিতে তারা ভয় পাচ্ছে। যার ফলে দিতে রাজী হচ্ছে না।
এখন আপনাদের প্রশ্ন থাকতে পারে তবে কি নবীনরা আসবে না?
হ্যাঁ অবশ্যই আসবে। তবে লেখালিখির নিয়ম-কানুন আগে শিখে অতঃপর আসবে। আপনার লেখালিখি করার এতোই যদি ইচ্ছে থাকে তবে আমি কিছু টিপস দিচ্ছি। যদি মেনে চলতে পারেন তবে লেখার মতো একটা অবস্থান তৈরি করে নিতে পারবেন।
কম করে হলেও টানা দের অথবা দুই বছর পর্যন্ত বিভিন্ন লেখক/লেখিকাদের গল্প পড়ুন। তবে আপনাদের মতো নতুনদের থেকে দূরে থাকাই ভালো। কেন না সে নিজেও জানে না।
এছাড়াও রয়েছে অন্তত পক্ষে ভালো লেখক/লেখিকাদের লেখা বই। কম করে হলেও ৫০টি বই পড়তে হবে। কেন না সাধারণ লেখালিখির থেকে বই লেখার সময় অধিক পরিমাণে পরিশ্রম এবং নজর দেওয়া হয়।
এছাড়াও রয়েছে আধুনিক বাংলা অভিধানটি। এটি সম্পূর্ণ পড়ে শেষ করতে হবে এবং আয়ত্ত করতে হবে। শুধু পড়লেই হবে না ভালো করে দেখে রাখতে হবে কোন শব্দটির অর্থ কী এবং কোন শব্দটি কীভাবে লেখা হয়েছে। এছাড়াও বই পড়ার সময় লেখায় ধ্যান দিতে হবে। এবং বাক্যগঠন ইত্যাদিতে নজর রাখতে হবে।
এছাড়াও রয়েছে অন্তত পক্ষে ভালো লেখক/লেখিকাদের লেখা বই। কম করে হলেও ৫০টি বই পড়তে হবে। কেন না সাধারণ লেখালিখির থেকে বই লেখার সময় অধিক পরিমাণে পরিশ্রম এবং নজর দেওয়া হয়।
এছাড়াও রয়েছে আধুনিক বাংলা অভিধানটি। এটি সম্পূর্ণ পড়ে শেষ করতে হবে এবং আয়ত্ত করতে হবে। শুধু পড়লেই হবে না ভালো করে দেখে রাখতে হবে কোন শব্দটির অর্থ কী এবং কোন শব্দটি কীভাবে লেখা হয়েছে। এছাড়াও বই পড়ার সময় লেখায় ধ্যান দিতে হবে। এবং বাক্যগঠন ইত্যাদিতে নজর রাখতে হবে।
এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ হলো জনাব " আবু তাহের মিছবাহ স্যারের " রচিত " এসো কলম মেরামত করি " বইটি সম্পূর্ণ শেষ করতে হবে। শুধু শেষ করলেই হবে না অনুধাবন করতে হবে কী কী লেখা হয়েছে। আপনি যদি " এসো কলম মেরামত করি " বইটি সম্পূর্ণ ভাবে মস্তিষ্কতে গেঁথে নিতে পারেন তবে আপনাকে লেখালিখিতে স্বাগতম। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে এই " এসো কলম মেরামত করি " বইটি তেমন ভাবে কেউই পড়তে পারে না। সবাই সাধারণ ভাবে পড়ে নেয় কিন্তু এটা ভুল। এই বইটি কে এরূপ ভাবে পড়তে হবে যে প্রতিটি শব্দ মস্তিষ্কে গেঁথে থাকবে।
আপনি যদি এই চারটি বিষয় মেনে চলতে পারেন এবং সম্পূর্ণ করতে তবেই লিখুন। অন্যথায় লেখা হইতে বিরত থাকুন। আপনার জন্য পাঠক সমাজ ধ্বংস হলে দায়ী কেবল আপনি। তাই দায়ী সারিয়ে তুলুন।
-- ধন্যবাদ --

No comments